পরতে আরামদায়ক আর অনেক বেশি পার্টি লুকের কারনে এই সময়ে নেটের বা লেসের শাড়ির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। অভিনেত্রী নাতাশা হায়াতকেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে লেসের শাড়ি পরে উপস্থিত হতে।
লেস বা নেট ফেব্রিকে কেমন শাড়ি পছন্দ জানতে চাইলে নাতাশার উত্তর এম্ব্রযডারী করা লেসের শাড়ি। তাতে আর কোনো বাড়তি কিছু নেই এমন শাড়িই পছন্দ।
মায়ের পুরনো কিছু লেসের শাড়ি বেশি ভালো লেগেছে বলেই তিনিও ঝুঁকেছেন এই শাড়ির সংগ্রহ বাড়ানোর দিকে। নাতাশা কেবল নিজের জন্যই নয়।
ফ্যাশনপ্রিয়দের প্রতিও আছে তার নজর। তাই তার বুটিক আইরিসেস এ সবসময় রাখছেন কিছু না কিছু লেস এবং নেটের শাড়ির কালেকশন।
আর এই সব শাড়ি কখনও এম্ব্রয়ডারী করা লেসের, কখনও মসলিন নেটের মিশ্রনে তৈরি আবার কখনও সিল্কের পাড় দিয়ে প্যাচ এর কাজ করা।
লেসের শুরুটা ছিল একদমই ঘরোয়াভাবে। ধীরে ধীরে সুতা আবিষ্কারের পর থেকেই লেসের বা নেটের ফেব্রিকের জন্ম হয়। আর মজার বিষয় হলো শাড়ি কামিজের জন্য ব্যবহৃত লেস, মশারির কাপড়, পোশাকে ব্যবহারের লেস বা গৃহসামগ্রীর পন্যে সৌন্দর্য আনতে ব্যবহৃত সবধরনের কাপড়কেই নেট বা লেস বলা হয়।
মুলত অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত কাপড় যাতে এম্ব্রয়ডারী করা হয় সেগুলোকে বলা হয়ে থাকে লেস এবং এম্ব্রয়ডারী ছাড়া এধরনের কাপড়ের নাম নেট। আর লেস বা নেট বাংলাদেশে এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এই ফেব্রিক কিন্তু বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত সেই ১৬শতক থেকেই।
ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা, দূরপ্রাচ্যের যে কোনো উৎসব বা পার্টি পোশাকে লেসের ব্যবহার লক্ষ্যনীয়। ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে লেসের ব্যবহার ছাড়া বিয়ের পোশাক ভাবাই যায় না।
বহু আগে ৭০ এর দশকের দিকে নেটের শাড়ির বেশ চল উঠেছিল। তখন সাধারনত জর্জেট শিফনে লেসের পাড় দিয়ে অথবা মশারি নেটের মতো দেখতে নেট ফেব্রিকে সিকোয়েন্সের কাজ করা শাড়িই বেশি দেখা যেত।
বলে জানালেন ড্রেসিডেলের প্রধান নির্বাহি মায়া রহমান। ওই ফ্যাশনটা তখন থাকলেও মাঝখানে খুব বেশি একটা দেখা যায়নি। ইদানিং লেসের শাড়ি জনপ্রিয় হচ্ছে কয়েকটি কারনে।
এই শাড়িগুলোতে পার্টিলুক বজায় থাকে ষোল আনাই। সামলানো মুশকিল না। ভারি কাজ করা থাকলেও শাড়িগুলো হালকা থাকে।
আবার একটু হালকা কাজের হলে যে কোনো ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও পরা যায়।
আর এই শাড়িগুলোর সাথে কোনো জমকালো গয়না বা সাজ সজ্জার প্রয়োজন হয়না বলে আজকের এই ব্যস্ত সময়ে কর্মজীবিদের কাছে তা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। ড্রেসিডেলের প্রধান নির্বাহি মায়া রহমান জানালেন এই ধরনের শাড়িতে তারা বেশ কয়েকধরনের কাজ করে থাকে।
সাধারনত এ্যাপ্লিক, প্যাচওয়ার্ক, কর্ডিং, জারদৌসি এমন কি হ্যান্ড এম্ব্রয়ডারীও করা হয়। এ্যাপ্লিকে টিস্যু, সিল্ক ইত্যাদি কাপড়ের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে এমন কি লেদারও। নেট ফেব্রিক বেশি নড়াচড়া করে না বলে এতে যেকোনো ধরনের উপাদান ব্যবহার করে কাজ করা সম্ভব। বললেন মায়া রহমান। তবে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে ফেব্রিকটা সিল্ক না সিনথেটিক বেইজ।
অবশ্যই সিল্কের নেট বা লেসের শাড়ি ব্যবহার করা উচিৎ। কারন সিনথেটিক হলে তা ত্বকের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ড্রেসিডেলের নেট এবং লেসের শাড়িতে স্বচ্ছতা এড়াতে পুরোটায় এম্ব্রয়ডারী করা হয় কখনও কখনও। আবার ডাই করে শাড়িকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে নিয়ে তারপর তাতে করা হয়ে থাকে বাড়তি যোগের কাজ।
দুই তিনটা রঙের নেট একসঙ্গে জোড়া লাগিয়ে তারপর তাতে ডিজাইন করা হয়ে থাকে। মেটাল অনুষঙ্গ ব্যবহার করেও এইসব শাড়িতে অনেক গর্জিয়াস লুক নিয়ে আসা হয়।
রঙের ক্ষেত্রে এসব শাড়িতে বেশি ভালো লাগে কালো, সবুজ, কফি, মেরুন রঙগুলো। লেসের বা নেটের শাড়ির সাথে বেশি জমকালো সাজ সজ্জা কখনওই মানাবে না।
তাই স্নিগ্ধভাবে সাজবে হবে এই শাড়ি পরলে। হালকা মেকআপে সেজে চুলগুলো ব্লো করে ছেড়ে দিলেই বেশি ভালো লাগবে।
আর ভারী কোনো গয়না নয় বরং হালকা হীরের লকেট এবং কানের দুলের সেট বা পাথরের ছিমছাম ডিজাইনের গয়না অথবা মুক্তোর গয়নাটাই এরকম শাড়ির সাথে বেশি ভালো দেখাবে বলে মনে করেন নাতাশা হায়াত।
বিভিন্ন বুটিক ছাড়াও লেসের শাড়ি পাওয়া যায় ঢাকার বড় বড় শপিং মলগুলোর শাড়ির দোকানে। তবে এসব শাড়িরগুলোতে কাজের ধরনে তেমন একটা পার্থক্য চোখে পড়ে না। ডিজাইনও হয়ে থাকে গৎবাঁধা। চাঁদনী চকে পাওয়া যায় নেট এবং লেসের গজ কাপড়।
এখান থেকে এম্ব্রয়ডারী করা লেসের কাপড় কিনে নিয়ে তৈরি করতে পারেন পছন্দ সই শাড়ি। আবার এক রঙা নেটের কাপড় কিনেও তাতে অ্যান্টিক লেস, বিভিন্ন ধরনের সিকোয়েন্সের ব্যবহার করে তৈরি করে নিতে পারেন পছন্দ সই শাড়ি।
Friday, August 28, 2009
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment