Saturday, August 22, 2009

আটপৌরে বাসন্তী সাজ



একটু কি বদলে গেল প্রকৃতি? রাজপথের পাশে ফুটে থাকা পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়া কি জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমন? কচি সবুজ পাতা, লাল-হলুদ ফুল প্রকৃতিকে তো রাঙিয়ে দিয়েছে বসন্তের রঙে।

বেশবাসেও কি তার ছোঁয়া লাগবে না? সামনেই পয়লা ফাল্গুন। বসন্তকে বরণ করতে বেরিয়ে পড়বে সবাই। বাসন্তী রং শাড়ি পরে ললনারা ডাক দেবে মেলায় যাওয়ার। সে দিনের সাজটা কেমন হবে আপনার? বসন্তের প্রকৃতিতে রঙের ছড়াছড়ি।


পয়লা ফাল্গুনের সাজে তাই রঙের ছোঁয়া থাকবেই। নতুন ফুল, পাতার রংগুলো তুলে আনুন পোশাকে। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া যা-ই পরা হোক, তাতে তো বসন্তের উজ্জ্বল রংগুলোর ছোঁয়া থাকা চাই। আর বসন্তের ফুলগুলো তো থাকবেই চুলে, গলায় বা হাতে।

আর এভাবে ঋতুর রঙেই উজ্জ্বল হবেন আপনি। বসন্তের প্রকৃতিই রাঙিয়ে দেবে আপনাকে। বাড়তি সাজের বাহার আর প্রয়োজন আছে কি? প্রকৃতিই যখন অকৃপণ হয়ে ঢেলে দিচ্ছে রঙের বাহার, কৃত্রিম সাজের আর প্রয়োজন কি আপনার? প্রকৃতির রং আর আটপৌরে সাজ দুয়ে মিলে অনন্য আপনি।

ফাল্গুনের প্রথম দিনের সাজ নিয়ে প্রভার মত হলো, ‘সাজ যেন জবরজং কিছু না হয়ে যায়। আর বাঙালিয়ানার ছাপ তো থাকতেই হবে সাজে। টিপ বা কাচের চুড়িতে তা ফুটিয়ে তোলা যেতে পারে। এখন যে ছেলেমেয়েরা আবির পরে ঘুরে বেড়ায়, সেটা দেখতেও আমার দারুণ লাগে।’

প্রথম দিনে শাড়িটাই বোধহয় সবচেয়ে প্রিয় পোশাক। সুতি, অ্যান্ডি, তাঁত বা জামদানি যাই পরা হোক, রঙের বেলায়ও সহমত অধিকাংশ তরুণীর।


বাসন্তী, কমলা, লাল, সবুজ, রানিং রং এগুলোই তো থাকবে পোশাকে। শাড়িতে থাকতে পারে ব্লক ও জরির কাজ। ব্লাউজের কাটে ভিন্নতা আনতে পারেন ম্যাগি বা ঘটি হাতা দিয়ে।

একপেঁচে শাড়ি পরা হলে এ রকম ব্লাউজ ভালো দেখাবে। হাতের বর্ডারে বসাতে পারেন চুমকি বা জরির লেস। তবে সেটা যেন চিকন হয়।

বসন্তের সাজে যেকোনো রঙের শাড়ির সঙ্গেই গাড় লাল রঙের ব্লাউজ ভালো দেখায়। শাড়ি পরাটা যদি খুব ঝামেলার মনে হয় তাতে কোথাও কমতি হবে না বসন্তের সাজে।

বাসন্তীরঙা একটা ফতুয়া পরেই বেরিয়ে পড়ুন। গলায় পেঁচিয়ে নিন লাল স্কার্ফ বা ওড়না। বসন্তের সাজের সঙ্গে কপালে টিপ থাকবে না, তা কি হয়।

অন্য সময যেমনই পছন্দ করুন। এ দিন কিন্তু গোল টিপ ছাড়া আর কিছুই মানাবে না, হতে পারে সেটা লাল বা অন্য যেকোনো রঙের।

কুমকুম দিয়েও আঁকতে পারেন টিপ। মন্দ লাগবে না। শাড়ির সঙ্গে কাচের চুড়ি তো পরা হবেই। আর সেটাও দুই হাত ভরেই। লাল, সবুজ, হলুদ রংগুলো মিলিয়ে পরুন।


ফতুয়া বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে কাচের চুড়ি পরতে না চাইলে লেস বা সুতার চুড়ি বেছে নিন। এক হাতে নানা রঙের সুতার চুড়ি ফতুয়ার সঙ্গে দারুণ দেখাবে।

ফুল ছাড়া তো ফাল্গুনের সাজ পূর্ণই হবে না। তবে চুলে গাদার মালা বা গাজরা না পেঁচিয়ে কানের পাশে গুঁজে দিন একটা বা দুটো জারবারা।

হাতে থাকতে পারে সুতায় গাঁথা গাঁদা, জারবারা। গোলাপ, রজনীগন্ধার চেয়ে জারবারা, অর্কিড বেশিক্ষণ তাজা দেখায়।

গলায় কোনো ফুল না পরে ব্যবহার করতে পারেন পুঁতির লম্বা মালা। চুলে ফুল থাকলে কানের দুলটা হওয়া চাই ছোট। সকালে চুল ব্লো-ড্রাই করে খোলা রাখতে পারেন। তবে সারা দিন সেটা বোধহয় সম্ভব হবে না।


আলতোভাবে হাতখোঁপা করে রাখা যেতে পারে। বেণিতে খুব ছোট কোনো ফুল ব্যবহার করতে পারেন।
হিল স্যান্ডেল এ দিন এড়িয়ে চলাই ভালো।

পাতলা চটিই সারা দিনের ঘোরাঘুরিতে আরাম দেবে। পায়ে জড়াতে পারেন চিকন নূপুর। আলতাও পরতে পারেন। আলতা পরলে নখে সাদা বা স্বচ্ছ রঙের নেইলপলিশ লাগতে পারেন। ফ্রেঞ্চ পলিশও ভালো লাগবে। ত্বক যদি সতেজ না দেখায়, তাহলে এত সাজগোজ পুরোটাই যেন মাটি।

ভ্রু-প্লাক, ফেসিয়াল এগুলো তাই সেরে ফেলুন এখনই। মেকাপে ত্বকের খুঁত ঢাকা নয়; বরঙ ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন। ভারী, জমকালো মেকাপ অন্য কোনো উপলরে জন্য বরং থাক। বসন্তের সাজটা হোক ছিমছাম, স্নিগ্ধ।

বেশি কিছু নয়, হালকা আইশ্যাডো, কাজল আর লিপগ্লসটাই এ দিনের সাজে পূর্ণতা আনবে। বসন্তের প্রথম দিনটার স্বাভাবিক যে বর্ণচ্ছটা, তাকে আর কৃত্রিম রঙে রাঙানোর প্রয়োজন নেই। পোশাকের রঙে ঔজ্জ্বল্য তো থাকছেই, সাজটা না হয় সেদিন সাদাসিধেই থাকল।

No comments:

Post a Comment