Friday, August 28, 2009

ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সাজগোজ

আপনি যখন লাল-সাদা শাড়ি পরে চিরায়ত বাঙালি সাজে সাজবেন তখন আপনার খোপায় হয়তো শোভা পাবে একগোছা সাদা বেলী ফুল। কপালে থাকবে লাল টিপ, হাতে প্রতিনিয়ত রিনিঝিনি বাজবে রেশমী চুড়ি। কিন্তু যদি শাড়ির বদলে জিন্স-টপস পরেন তখন কি বেলী ফুল, টিপ কিংবা রেশমী চুড়ি মানাবে? বোধহয় না। তাহলে মানে দাঁড়াল, আপনি আপনার ইচ্ছামতো পোশাক পরতে পারেন, কিন্তু সাজটা হওয়া চাই মানানসই। আপনার পশ্চিমা পোশাকের সাথে সাজটা কেমন হবে, তা জানাতেই এই আয়োজন-

পোশাক বা ড্রেস যাই বলি না কেন ফ্যাশনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান স্টাইল ট্রেন্ডে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক থেকে শুরু করে পশ্চিমা পোশাকও আছে তরুণ-তরুণীদের পছন্দের তালিকায়। এই পশ্চিমা পোশাক ফ্যাশনের আধুনিকতার জন্যই জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বব্যাপী। যারা ফ্যাশন সচেতন, তাদের কাছে দেশীয় পোশাক যেমন পছন্দের একই সাথে তারা পছন্দ করেন পশ্চিমা পোশাক। কলেজ, ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া তরুণী থেকে শুরু করে এক্সিকিউটিভ লেভেলের নারীরাও আজকাল পশ্চিমা পোশাক পড়ছেন অহরহ। কিন্তু অনেকেই জানেন না পশ্চিমা পোশাক পরলেই কেবল ফ্যাশন সচেতন হওয়া যায় না। তার সাথে রূপসজ্জাটাও হওয়া চাই মানানসই।

পশ্চিমা বা ওয়েস্টার্ন ডেসের সাথে রূপসজ্জা হতে হবে একদমই বুঝেশুনে। কিন্তু সাজের আগে ওয়েস্টার্ন ড্রেস সম্পর্কে জানা দরকার। ওয়েস্টার্ন ড্রেস দুই ধরনের হয়। ক্যাজুয়াল ও ফর্মাল। ফ্যাজুয়াল ড্রেস আর ফর্মাল ড্রেসের সাজ অবশ্যই ভিন্নধরনের হবে। ফর্মাল প্যান্ট শার্ট পরলে সাজগোজ হবে একদমই সীমিত। হালকা মেকআপের সাথে হালকা অর্নামেন্টস। ক্যাজুয়াল প্যান্টের সাথে ফতুয়া বা টপস পরলে বড় কানের দুল হাতে মোটা চুড়ি পরতে পারেন। ক্যাজুয়াল শার্টের সাথে বড় মালা ভাল লাগবে। এ ধরনের ড্রেসে ছোট গয়না ভাল লাগবে না। সবচেয়ে মানানসই হলো মাটির গয়না। প্যান্টের সাথে টি-শার্ট পরলে কানে ও গলার গয়না নির্ভর করে টিশার্টের গলার ধরনের ওপর। হাই নেক টি শার্টে গলা আড়ালে থাকে বলে গয়না পরা যায় না। লো নেক টি শার্টে গলায় লকেট পরতে পারেন। কিন্তু টি-শার্টে অনেক কাজ করা থাকলে গলায় কিছু না পরাই ভাল। এর সাথে টিপ পরতে পারেন কালার দিয়ে। তবে ড্রেসের রঙয়ের সাথে মানানসই টিপ পরা উচিত। ফর্মাল ড্রেস রাতে পরলে প্যান্ট শার্টের ক্ষেত্রে চুল খোলা রাখাটাই বাঞ্চনীয়। ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সাথে ফুল কোনোভাবেই যায় না।

ফর্মাল বা ক্যাজুয়াল, ড্রেস যাই হোক না কেন, ড্রেসের ধরনের পাশাপাশি মেকআপ হতে হবে দিন-রাতের ওপর নির্ভর করে। দিনের বেলায় ক্যাজুয়াল ড্রেসের মেকআপ খুব সাদামাটা হওয়া চাই। তাই বলে ফ্যাকাশে ধরনের নয়। হালকা সাজের মধ্যে পাউডার-কাজল ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁটে হালকা গোলাপি বা বাদামি গ্লস লাগাতে পারেন। ম্যাট লিপস্টিকও লাগাতে পারেন।

ফর্মাল পোশাক পরলে মেকআপে একটা মিশ্রভাব থাকতে হবে। প্রথমে ফাউন্ডেশন দিন। তৈলাক্ত ত্বকে ম্যাট আর শুষ্ক ত্বকে অয়েল বেজড ফাউন্ডেশন দিন। আইশ্যাডো ব্যবহার করতে হলে মোটা করে আই লাইনার দিতে পারেন। তবে এটা রাতের বেলায় করবেন। আর দিনের বেলায় চুল খোলা রাখলে ভাল লাগবে। জুতা না স্যান্ডেল পরবেন তা নির্ভর করবে ড্রেসের ধরনের ওপর।

বর্ষার সাজ

আষাঢ় মাসের বেশ কয়েক দিন কেটে গেল। ঝুম বৃষ্টি নামেনি এখনো। কিন্তু আকাশে মেঘের ঘনঘটা, মাঝে মধ্যে এক পশলা বর্ষণ, নতুন গজানো কচি লতাপাতা আর কদম ফুলের বাহারে বর্ষার আমেজ পাওয়া যাচ্ছে বেশ। আর ঋতুবদলটা প্রকৃতিতে ফুটে ওঠার পাশাপাশি সাজপোশাকে তো চোখে পড়বেই। যেমন মেয়েদের পরনে এখনই দেখা যাচ্ছে নীল-সবুজ পোশাক, চুলে কদম বা বেলি।
মূলত গরম আর শীত এই দুই সময়কে মাথায় রেখেই আমাদের দেশে পোশাক ডিজাইন করা এবং কেনা হয়। তবে এখন বর্ষা ঋতুর থিম ব্যবহার করেও অনেকে কাজ করছেন। বৃষ্টি, বর্ষার ফুল, লতাপাতা, মেঘলা আকাশ এসব বিষয় উঠে আসছে পোশাকের মোটিফ হিসেবে। আর এ সময়কার প্রকৃতির রংটাই ব্যবহার হচ্ছে পোশাকে। যেমন সবুজ, নীল, ছাই, আকাশি ইত্যাদি। সব সময় পরার জন্য আর জমকালো কোনো উপলক্ষের জন্য−দুই রকম পোশাকই ডিজাইন করা হচ্ছে এ ঋতুতে। ফ্যাশন হাউস মৃন্নয়ীর ডিজাইনার শুক্লা আহমেদ বলেন, ‘এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে আবহাওয়াটা বেশ গুমোট থাকে। তাই সব সময় সুতি কাপড়ই বেশি পরা হয়। আর একটু আনুষ্ঠানিক ভাব আনতে চাইলে অ্যান্ডি সিল্ক ব্যবহার করা যায়। এবার আমরা সুতির ওপরই বেশি কাজ করেছি। গরমের কথা ভেবে পোশাকে খুব সাদাসিধে কাজ করা হয়েছে। ব্লক আর স্ক্রিন প্রিন্টই বেশি ব্যবহার হয়েছে। যেমন কোনো শাড়ির আঁচলে ব্লক করা হলে কুঁচিতে হয়তো দেওয়া হয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট। হালকা এমব্রয়ডারি বা চুমকির কাজও আছে। তবে সেটাও করা হয়েছে এ ঋতুর আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই। এ সময় ব্লাউজে হাইনেক ফ্যাশনটা বেশ চলছে। তবে বর্ষায় সব সময় এটা পরা সুবিধাজনক নয়। তাই হাইনেক না করে গলার কাটিংয়ে অন্যভাবে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে।’
সকালে খটখটে রোদ দেখে বের হলেও যেকোনো সময় এক পশলা বৃষ্টির ছাঁটে কাকভেজা হয়ে যেতে পারেন। পোশাকটা তাই এ কথা ভেবেই নির্বাচন করা উচিত। যেমন সুতি বা জর্জেট যে শাড়িই পরুন, ব্লাউজ একটু মোটা সুতি কাপড়ের হওয়াই ভালো। রংটাও গাঢ় পরাই সুবিধাজনক। পাতলা কোটা শাড়িগুলো এ সময় এড়িয়ে চলাই আরামদায়ক। বর্ষার রং হিসেবে কেন জানি নীলের কথাই আগে মনে পড়ে। তবে অন্যান্য উজ্জ্বল রং পরলেও ভালো দেখায়।
পোশাকের সঙ্গে গয়না হালকা হলেই ভালো হয়। চুলে পরা যেতে পারে ফুল। কানে ছোট টপ বা হাতে কয়েকটি ব্রেসলেটই যথেষ্ট।
ফেম বিউটি কেয়ার অ্যান্ড ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটের কর্ণধার রুমা মাহবুব জানালেন এ সময়কার মেকাআপ কেমন হতে পারে। ‘বর্ষার সাজে সব মিলিয়ে একটা স্িমগ্ধ ভাব থাকা চাই। হালকা মেকাআপই তাই ভালো। চুলটা বাঁধা থাকলেই বরং সুবিধা হবে। হাতখোঁপা করে তাতে গুঁজে দেওয়া যেতে পারে কদম, বেলি বা চাঁপা ফুল। কপালে ছোট গোল টিপ পরতে পারেন। চোখে নীল, সবুজ বা ছাই রঙের কাজলের টান থাকতে পারে। তবে সেটা যেন পানিরোধক হয়। আইশ্যাডো দিলেও তা হবে হালকা কোনো রঙের। মাসকারা এড়িয়ে গেলে আপনারই সুবিধা হবে। তবে মাসকারা ব্যবহার করলে তা যেন পানিরোধক হয়। হালকা ফেইস পাউডার লাগাতে পারেন। আর লিপস্টিক গ্লস হলেই ভালো হয়। হালকা গোলাপি, বাদামি এ ধরনের রং বাছতে পারেন লিপস্টিকের জন্য।’ বললেন রুমা।
বর্ষার প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তার সজীবতায়। সেই সজীব ও সতেজ ভাব যেন থাকে আপনার সাজপোশাকেও।

চোখের ভাষা


চোখের নীরব ভাষা নাকি হাজারো শব্দের তুলনায় জোরালো। ওই চোখ নিয়ে কবির যত কাব্য...পাখির নীড়ের মতো চোখের বনলতা সেনকে নিয়ে আজও মানুষের কল্পনার অন্ত নেই। মনের কথা বলতে পারা সে চোখের ভাষা সহজ করে তুলতে পারাটাও কম কৃতিত্বের নয়। চোখের সৌন্দর্যের নানা দিক নিয়ে বলেছেন রূপ বিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান।

মুখের সঙ্গে মানানসই ভ্রু
চোখের সৌন্দর্যের অনেকটাই নির্ভর করে চোখের ওপর বসে থাকা ভ্রু জোড়ার ওপর। তাই ভ্রু জোড়া হতে হবে মুখের সঙ্গে মানানসই। আপনার মুখের ও চোখের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভ্রু তুলুন। যাঁদের মুখের আকৃতি গোলগাল, তাঁরা ইউ-আকৃতির ভ্রু রাখতে পারেন। যাঁদের মুখের আকৃতি ডিম্বাকৃতি বা লম্বাটে, তাঁদের ভি-আকৃতিতে ভালো দেখাবে। যাঁদের জোড়া ভ্রু মানিয়ে যায়, তাঁরা জোড়া ভ্রুও রাখতে পারেন। ভ্রু যাঁদের পাতলা, তারা চেষ্টা করুন একটু দেরি করে ভ্রু তুলতে।

কাজল কালো চোখ
বর্তমানে চোখের ফ্যাশনে নতুন যোগ হয়েছে ষাটের দশকের মোটা করে কাজল দেওয়ার বিষয়টি। কাজল ছাড়াও গাঢ় নীল, সবুজ, হালকা নীল, গ্লসি বিভিন্ন রঙের কাজল পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরার ফ্যাশন লক্ষ করা যাচ্ছে। পাশাপাশি আইলাইনার, মাশকারা আর আইশ্যাডোর ব্যবহার তো আছেই।

চোখের সাজ
চোখের সাজের সময় ফ্যাশনের পাশাপাশি গুরুত্ব দিতে হবে চোখের আকৃতি ও রঙের ওপর। একেক চোখের সাজ হয় একেক রকম।
ছোট চোখ যাঁদের, তাঁরা মেকআপের ক্ষেত্রে হালকা রং বেছে নিন। চোখের পুরোটা এলাকায় হালকা গোলাপি রঙের শ্যাডো লাগিয়ে চোখের পাতার ওপর পর্যন্ত বাদামি রং মিশিয়ে নিন। এরপর চোখের পাতা ও বাইরের দিকে গাঢ় গোলাপি রং লাগিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। আপনি যদি গাঢ় রঙের আইলাইনার লাগান, সে ক্ষেত্রে চোখের নিচের পাতার কোলে লাগাবেন না। চোখের নিচের পাতার কোলে সাদা, সোনালি, রুপালি প্রভৃতি রঙের পেনসিলের টান দিতে পারেন। এতে চোখ উজ্জ্বল, বড় ও প্রশস্ত দেখাবে। চোখে লাগাতে পারেন ঘন করে মাশকারা।
বড় চোখে আইশ্যাডো লাগানোর সময় চোখের পাতার ওপরে হালকা রঙের শেড লাগিয়ে বাইরের কোণে গাঢ় শেড লাগাবেন। আইলাইনার দিয়ে খুব চিকন করে লাইন আঁকুন। একেবারে পাপড়ির ধার ঘেঁষে এবং চোখের নিচের অংশের কোলে কাজল পরে কিছুটা বাইরে টেনে দিন। এরপর ভ্রু ও চোখের মাঝখানে সাদা অথবা ঘিয়া কালারের শ্যাডো আলতোভাবে ছুঁয়ে দিন। চোখের নিচের ও ওপরের পাতায় গাঢ় আইলাইনার লাগাতে পারেন।
যাঁদের চোখ ফোলা ধরনের, তাঁরা চোখের পাতা এবং চোখের চারপাশে হলদে টোনের লুজ পাউডার আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। চোখের পাতায় ভাঁজের নিচ পর্যন্ত মিডিয়াম রঙে শ্যাডো লাগান। আই ভ্রু কোণে হাইলাইট করুন। এরপর বাইরের কোনা থেকে ভেতরের দিকে গাঢ় রং লাগান। এ ধরনের চোখে কখনোই ঘিয়া আইশ্যাডো লাগাবেন না। ওপরের পাতায় একেবারে পাপড়ির কোল ঘেঁষে বাইরে দিকের তিন ভাগে আইলাইনার লাগান। গোল চোখকে দীর্ঘ দেখানোর জন্য আইশ্যাডো ও লাইনারের টান বাইরের দিকে বাড়িয়ে দিন। কোনাগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে যেন কোমল ও নরম দেখায়। এই চোখকে সম্প্রসারিত রূপে নিতে চোখের ভাঁজ পড়া অংশ পর্যন্ত মিডিয়াম শেডের আইশ্যাডো লাগান। শেডটি টেনে চোখের কোনার বাইরে নিচের চোখের নিচের পাতার বাইরের কোনা থেকে ভেতরের দিকে যেতে থাকুন। কালো আইলাইনার দিয়ে চোখের নিচের ও ওপরের পাতায় লাইন আঁকুন। চোখের ওপরের পাতায় মাশকারা লাগাবেন। বাইরের দিকের অর্ধেকটায় বেশি ঘন করে লাগাবেন।
যাঁদের চোখ একটু ভেতরের দিকে চাপা, তাঁরা মেকআপের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখুন চোখকে বেশি ফুটিয়ে তোলার দিকে। চোখের ভাঁজ পড়া অংশে গাঢ় রঙের আইশ্যাডো লাগাতে পারেন। চোখের পাতায় পেনসিল আইলাইনার ও মাশকারা লাগাবেন। আঙুল দিয়ে লাইনারগুলো ছড়িয়ে দিন।
দুই চোখের মাঝখানে দুরত্ব বেশি থাকলে চেষ্টা করুন মেকআপের মাধ্যমে দুরত্ব কমিয়ে আনতে। চোখের ভেতরের কোনার দিকে গাঢ় রঙের শ্যাডো দিতে পারেন। আবার যাঁদের দুই চোখের মাঝখানে দুরত্ব কম, তাঁরা মেকআপের সময় চোখের বাইরের কোনার দিকে গুরুত্ব বেশি দিন।
চোখের সাজের ক্ষেত্রে ভিন্নতা আনতে দুই রঙের আইশ্যাডো দিন। পেনসিল লাইনার চোখের ওপর-নিচ দুই পাতায় লাগানো গেলেও লিকুইড লাইনার শুধু চোখের ওপরের পাতায় লাগান। আইলাইনার মোটা করে লাগাবেন না। এতে চোখকে ভারী ও ক্লান্ত দেখায়। আপনি যদি লেন্স ব্যবহার করেন, মেকআপের শুরুর আগেই তা পরে নিন।

চোখের যত্ন
চোখের সাজের পাশাপাশি নজর দিতে হবে চোখের যত্নের দিকেও। চোখে প্রচুর পানির ঝাপটা দিন। বাইরে থেকে ফিরে ভালোভাবে চোখের মেকআপ তুলুন। যাঁদের চোখের নিচে কালি পড়ার সমস্যা আছে, তাঁরা শসা চাক করে চোখের পাতায় ২০-২৫ মিনিট রাখুন। গোল আলুর রসও ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া বাজারে বিভিন্ন আইকেয়ার জেল পাওয়া যায়, তা ব্যবহার করতে পারেন। মাঝেমধ্যে ঘড়ির কাঁটার দিকে অথবা বিপরীতে খুব হালকাভাবে চোখ ম্যাসেজ করতে পারেন। চোখকে বিশ্রাম দিন। দৈনিক অন্তত ছয় ঘণ্টা ঘুমান এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফলমূল খান।

নখের ফ্যাশন

আজকাল ফ্যাশন করে অনেকেই বেশ বড় নখ রাখেন, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত সে সেটা আপনার লাইফ স্টাইলের সঙ্গে যায় কিনা। হাত দিয়ে প্রতিদিন কি ধরনের কাজগুলো আপনাকে করতে হয়, নখের যত্ন করবার সময় ইত্যাদি।

নখ সাজাতে

দীর্ঘবছর ধরেই নারীরা নখকে সাজিয়ে তুলতে ব্যবহার করছে নানা উপকরণ। এর মধ্যে আলতা, মেহেদী, নানা রঙের নেইল পলিশ ইত্যাদি ছাড়াও রয়েছে স্টোন, গ্লিটার, নকল নখের ব্যবহার।

নেইল পলিশ

চট-জলদি নখ সাজাতে নেইল পলিশের জুড়ি নেই। পোশাকের রঙের সাথে মেলাতে কিংবা পছন্দসই রঙের নেইলপলিশ আপনার নখকে করে তুলবে চকচকে ও আকর্ষণীয়। 

নেইল পলিশ লাগানোর সময় প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস যেমন কটনবল, রিমুভার, টাওয়েল, নিউজ পেপার ও কিয়ার নেইলপলিশ আগেই হাতের কাছে রাখুন।
নেইলপলিশ এমন জায়গায় বসে লাগান যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আছে। কালার নেইল পলিশ লাগানোর আগে এক কোড কিয়ার নেইল পলিশ লাগান। এবার কিয়ার পলিশ শুকিয়ে গেলে আপনার পছন্দের কালারটি লাগান। তা শুকিয়ে গেলে এর উপর আবার একবার কিয়ার নেইলপলিশ লাগান এবং শুকিয়ে নিন।


স্টোন স্টিকার

ইদানিং নেইলপলিশের সাথে নখের সাজসজ্জা ব্যবহার হচ্ছে নানা ধরনের স্টোন, স্টিকার ইত্যাদি। টুজার, নেইল জেল বা নেইল গাম দিয়ে এগুলো সহজেই নখে বসানো হয়। প্রথমে স্টোন বা স্টিকার গাম দিয়ে নখে লাগিয়ে নিন। তারপর শুকিয়ে গেলে তার উপর নেইল পলিশ লাগান।

গ্লিটার
বিয়ের পার্টিতে কিংবা জমকালো অনুষ্ঠানে নখের সাজে ভিন্নতা আনতে নখে গ্লিটার ব্যবহার করতে পারেন। নেইল জেল কিংবা গাম দিয়ে নখের উপর গ্লিটার লাগিয়ে তার উপর ঘন করে নেইল পলিশ লাগান। আবার গ্লিটার যুক্ত নেইল পলিশও লাগাতে পারেন। 


নকল নখ

যারা কাজের জন্য বড় নখ রাখতে পারেন না কিংবা স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ছোট নখ রাখেন তারা ফ্যাশনের জন্য প্রয়োজনে ফেইক নেইল কিংবা নকল নখ লাগাতে পারেন। এগুলো সাধারণত ফ্রি শেপের এবং সাদা হয়। সেক্ষেত্রে আপনার আঙ্গুলের সঙ্গে মিলিয়ে তা কেটে ফাইল করে নিন তারপর নেইল গাম দিয়ে নখে লাগান। পরে পছন্দসই নেইলপলিশ লাগাতে পারেন।

নখের যত্ন

নখের যত্নে কিছু নিয়ম মানা জরুরী সেই সাথে করতে হবে নিয়মিত মেনিকিউর এবং পেডিকিউর। নেইল পলিশ লাগানোর আগে ভাল করে পুরানো নেইল পলিশ তুলে ফেলতে হবে এবং অবশ্যই নেইল রিমুভার তুলোতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

টিপস

০ নখ সুস্থ ও সুন্দর রাখার ক্ষেত্রে কিছুদিন পর পর ম্যানিকিউর প্যাডিকিউর করা জরুরী।

০ নেইল পলিশ ব্যবহার করার সময় তা ঢেকে রেখে ব্যবহার করুন। ঢাকনা খোলা রাখলে নেইল পলিশ শুকিয়ে যাবে।

০ নেইল পলিশ শুকিয়ে গেলে তার মধ্যে গ্লিসারিন অথবা রিমুভার ঢেলে ভালভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। দেখবেন আবার আগের মতো ব্যবহার করতে পারছেন।

০ নেইল পলিশ বেশী ঘন করে না লাগানোই ভাল। নখে পেইন্ট বা অন্য কিছু লাগানোর পর খুব পাতলা করে নেইল পলিশ লাগাবেন।

০ নেইল পলিশ লাগানোর আগে তা কিছুক্ষণ ঝাঁকিয়ে নিন।

০ নেইল পলিশ, স্টোন, গ্লিটারের উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে পারেন।

০ প্রতিবার নেইল পলিশ লাগানোর পর তা সতর্কতার সাথে শুকিয়ে নিন।

ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউর

নখের স্বাভাবিকতা ধরে রেখে অর্থাৎ প্রাকৃতিক রঙটাকে একটু উজ্জ্বল করাই হল ফেঞ্চ ম্যানিকিউর। এক্ষেত্রে নখের সামনের দিকে সাদা বা অন্য কোনো কালার লাগানো হয়, নখের নিয়মিত যত্নে ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউর বেশ জনপ্রিয়।

নেইল রিমুভার

০ নেইল রিমুভর দিয়ে খুব সহজেই নেইল পলিশ তোলা যায় ফলে অন্য কিছু দিয়ে ঘষাঘষির হাত থেকে নখ থাকে সুরক্ষিত।

০ তুলা বা টিস্যুতে রিমুভার লাগিয়ে তা নখে হালকা চাপ দিয়ে তুলুন। 

০ রিমুভার শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

০ রিমুভার লাগানো শেষ হলে হাত ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন। 

০ রিমুভার লাগানোর সময় এবং লাগানো শেষ হলে রিমুভারের মুখ ভালোভাবে লাগিয়ে রাখুন।

সতর্কতা

০ দাঁত দিয়ে নখ কাটবেন না। নেইল কাটার ব্যবহার করুন। আর প্রতিবার নখ কাটার পর নখ ফাইল করতে ভুলবেন না।

০ সবসময় নেইলপলিশ লাগাবেন না। তাতে নখের উজ্জ্বলতা স্পষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

০ ভেজা হাতে গ্লাভস পরবেন না। এতে নখের ক্ষতি হয়।

০ সস্তা নেইল পলিশ এড়িয়ে চলুন।

০ প্রতিবার খাওয়ার শেষে নখের কোথাও লেগে থাকা খাবার ভালভাবে হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

০ ঘুমানোর আগে এবং গোসলের পর হাত, পায়ে ভ্যাসলিন লাগালে উপকার পাওয়া যাবে।

লেস এবং নেটের শাড়ি

পরতে আরামদায়ক আর অনেক বেশি পার্টি লুকের কারনে এই সময়ে নেটের বা লেসের শাড়ির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। অভিনেত্রী নাতাশা হায়াতকেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে লেসের শাড়ি পরে উপস্থিত হতে। 

লেস বা নেট ফেব্রিকে কেমন শাড়ি পছন্দ জানতে চাইলে নাতাশার উত্তর এম্ব্রযডারী করা লেসের শাড়ি। তাতে আর কোনো বাড়তি কিছু নেই এমন শাড়িই পছন্দ। 

মায়ের পুরনো কিছু লেসের শাড়ি বেশি ভালো লেগেছে বলেই তিনিও ঝুঁকেছেন এই শাড়ির সংগ্রহ বাড়ানোর দিকে। নাতাশা কেবল নিজের জন্যই নয়। 

ফ্যাশনপ্রিয়দের প্রতিও আছে তার নজর। তাই তার বুটিক আইরিসেস এ সবসময় রাখছেন কিছু না কিছু লেস এবং নেটের শাড়ির কালেকশন। 

আর এই সব শাড়ি কখনও এম্ব্রয়ডারী করা লেসের, কখনও মসলিন নেটের মিশ্রনে তৈরি আবার কখনও সিল্কের পাড় দিয়ে প্যাচ এর কাজ করা। 

লেসের শুরুটা ছিল একদমই ঘরোয়াভাবে। ধীরে ধীরে সুতা আবিষ্কারের পর থেকেই লেসের বা নেটের ফেব্রিকের জন্ম হয়। আর মজার বিষয় হলো শাড়ি কামিজের জন্য ব্যবহৃত লেস, মশারির কাপড়, পোশাকে ব্যবহারের লেস বা গৃহসামগ্রীর পন্যে সৌন্দর্য আনতে ব্যবহৃত সবধরনের কাপড়কেই নেট বা লেস বলা হয়। 

মুলত অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত কাপড় যাতে এম্ব্রয়ডারী করা হয় সেগুলোকে বলা হয়ে থাকে লেস এবং এম্ব্রয়ডারী ছাড়া এধরনের কাপড়ের নাম নেট। আর লেস বা নেট বাংলাদেশে এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এই ফেব্রিক কিন্তু বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত সেই ১৬শতক থেকেই। 

ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা, দূরপ্রাচ্যের যে কোনো উৎসব বা পার্টি পোশাকে লেসের ব্যবহার লক্ষ্যনীয়। ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে লেসের ব্যবহার ছাড়া বিয়ের পোশাক ভাবাই যায় না। 

বহু আগে ৭০ এর দশকের দিকে নেটের শাড়ির বেশ চল উঠেছিল। তখন সাধারনত জর্জেট শিফনে লেসের পাড় দিয়ে অথবা মশারি নেটের মতো দেখতে নেট ফেব্রিকে সিকোয়েন্সের কাজ করা শাড়িই বেশি দেখা যেত। 

বলে জানালেন ড্রেসিডেলের প্রধান নির্বাহি মায়া রহমান। ওই ফ্যাশনটা তখন থাকলেও মাঝখানে খুব বেশি একটা দেখা যায়নি। ইদানিং লেসের শাড়ি জনপ্রিয় হচ্ছে কয়েকটি কারনে। 

এই শাড়িগুলোতে পার্টিলুক বজায় থাকে ষোল আনাই। সামলানো মুশকিল না। ভারি কাজ করা থাকলেও শাড়িগুলো হালকা থাকে। 

আবার একটু হালকা কাজের হলে যে কোনো ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও পরা যায়।
আর এই শাড়িগুলোর সাথে কোনো জমকালো গয়না বা সাজ সজ্জার প্রয়োজন হয়না বলে আজকের এই ব্যস্ত সময়ে কর্মজীবিদের কাছে তা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। ড্রেসিডেলের প্রধান নির্বাহি মায়া রহমান জানালেন এই ধরনের শাড়িতে তারা বেশ কয়েকধরনের কাজ করে থাকে। 

সাধারনত এ্যাপ্লিক, প্যাচওয়ার্ক, কর্ডিং, জারদৌসি এমন কি হ্যান্ড এম্ব্রয়ডারীও করা হয়। এ্যাপ্লিকে টিস্যু, সিল্ক ইত্যাদি কাপড়ের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে এমন কি লেদারও। নেট ফেব্রিক বেশি নড়াচড়া করে না বলে এতে যেকোনো ধরনের উপাদান ব্যবহার করে কাজ করা সম্ভব। বললেন মায়া রহমান। তবে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে ফেব্রিকটা সিল্ক না সিনথেটিক বেইজ।
অবশ্যই সিল্কের নেট বা লেসের শাড়ি ব্যবহার করা উচিৎ। কারন সিনথেটিক হলে তা ত্বকের সমস্যা তৈরি করতে পারে। 

ড্রেসিডেলের নেট এবং লেসের শাড়িতে স্বচ্ছতা এড়াতে পুরোটায় এম্ব্রয়ডারী করা হয় কখনও কখনও। আবার ডাই করে শাড়িকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে নিয়ে তারপর তাতে করা হয়ে থাকে বাড়তি যোগের কাজ। 

দুই তিনটা রঙের নেট একসঙ্গে জোড়া লাগিয়ে তারপর তাতে ডিজাইন করা হয়ে থাকে। মেটাল অনুষঙ্গ ব্যবহার করেও এইসব শাড়িতে অনেক গর্জিয়াস লুক নিয়ে আসা হয়। 

রঙের ক্ষেত্রে এসব শাড়িতে বেশি ভালো লাগে কালো, সবুজ, কফি, মেরুন রঙগুলো। লেসের বা নেটের শাড়ির সাথে বেশি জমকালো সাজ সজ্জা কখনওই মানাবে না। 

তাই স্নিগ্ধভাবে সাজবে হবে এই শাড়ি পরলে। হালকা মেকআপে সেজে চুলগুলো ব্লো করে ছেড়ে দিলেই বেশি ভালো লাগবে।



আর ভারী কোনো গয়না নয় বরং হালকা হীরের লকেট এবং কানের দুলের সেট বা পাথরের ছিমছাম ডিজাইনের গয়না অথবা মুক্তোর গয়নাটাই এরকম শাড়ির সাথে বেশি ভালো দেখাবে বলে মনে করেন নাতাশা হায়াত। 

বিভিন্ন বুটিক ছাড়াও লেসের শাড়ি পাওয়া যায় ঢাকার বড় বড় শপিং মলগুলোর শাড়ির দোকানে। তবে এসব শাড়িরগুলোতে কাজের ধরনে তেমন একটা পার্থক্য চোখে পড়ে না। ডিজাইনও হয়ে থাকে গৎবাঁধা। চাঁদনী চকে পাওয়া যায় নেট এবং লেসের গজ কাপড়। 

এখান থেকে এম্ব্রয়ডারী করা লেসের কাপড় কিনে নিয়ে তৈরি করতে পারেন পছন্দ সই শাড়ি। আবার এক রঙা নেটের কাপড় কিনেও তাতে অ্যান্টিক লেস, বিভিন্ন ধরনের সিকোয়েন্সের ব্যবহার করে তৈরি করে নিতে পারেন পছন্দ সই শাড়ি।

কাতানে আভিজাত্য

কাতানে আভিজাত্য 
জ্যাকার্ড হ্যান্ডলুমে টানা ভরনায় দেওয়া আছে রেশম সুতো আর তাঁতির বুননের সাথে সাথে জমিনে ভেসে উঠছে বেনারসি মোটিফের লতা, ফুল, কলকা ইত্যাদি। এরই নাম কাতান শাড়ি�- এভাবেই কাতান শাড়ি সম্পর্কে বললেন এমদাদ হক। বেনারসির আরেকটি ধরন কাতান শাড়ি। 

অনেকদিন আগে বিয়ে বাড়ি বা রাষ্ট্রীয় কোনো বড় উৎসবে মহিলারা ব্যবহার করত কাতান শাড়ি। হালকা কাজের দেশি কাতানের ছিল ব্যাপক চাহিদা। মাঝখানে অনেকটা সময় কাতান এধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের বাইরে থাকলেও একদমই বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। কেউ না কেউ নিয়মিতই ব্যবহার করেছে এধরনের শাড়ি। 

আর একারনেই মিরপুর বেনারসি পল্লীর বেনারসি কারিগর এবং ব্যবসায়ীরা নিত্য তৈরি করে চলেছে নতুন নতুন ডিজাইন এবং বাহারি রঙের কাতান বেনারসি শাড়ি। এই ধরনের শাড়ির ইতিহাস ভারতের উত্তর প্রদেশের বেনারস থেকে হলেও এখন সময়ের সাথে সাথে পুরনো ডিজাইনকেই নানা ভাবে কাটছাট করে তাঁতি কারিগররা তৈরি করছে চমৎকার সব কাতান শাড়ি। 

কাতান কিনুন যাচাই করে
====================

একটা দামি শাড়ি কিনতে গেলে তো বাছাই করা জরুরি। নয় কি? তাই জেনে নেওয়া দরকার কি দেখে কাতান শাড়ি কিনতে হবে। এমদাদ হক বললেন কাতান শাড়ি কিনতে বেশ কিছু বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তবেই শাড়ি কেনা উচিৎ। 

১. প্রথমেই বেছে ফেলুন পছন্দের কয়েকটি রঙ। 
২. কাতান শাড়ি কিনতে যাবেন অবশ্যই দিনের আলো থাকতে থাকতে। আর শাড়ি পছন্দ হলে দোকানের বাইরে এনে তবে আসল রঙটি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। রাতে গেলে ইলেক্ট্রিক বাতি ঠিক রঙটি পছন্দ করতে সাহায্য নাও করতে পারে। 
৩. শাড়ির রঙ পছন্দ হয়ে গেলে এবার শাড়ির কোনা থেকে অল্প একটু সুতো ছিড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দেখুন তা ছাই হয়ে যাচ্ছে নাকি গুটলি পেকে যাচ্ছে। ছাই হলে বুঝবেন আপনি ভালো জিনিষটিই কিনছেন। আর যদি গুটলি পেকে যায় তাহলে বুঝবেন এটাতে নাইলনের মিশ্রন রয়েছে। 

৪. ওজনটা কেমন দেখে নিন। ফুল সিল্ক শাড়ি হলে ওজনে হালকা হবে কাতানটি। আর কাজ যকই হোক না কেন জরির ওজন হালকা হয়ে যাবে যদি জরি ভালো হয়। জরিটা ভালো কিনা এটা যাচাই করবার জন্য দেখুন শাড়ি যেখানে ভাজ হয়ে থাকে সেখানে জরির রঙ সাদা হয়ে গেছে নাকি সোনালিই আছে । সাদা হয়ে গেলে তৎনাত বাদ দিয়ে দিন শাড়িটি। কারন ওটা রোলেক্সের জরি। 

৫. অবশ্যই ভালো কোনো দোকানে যেতে হবে এবং দোকানিকে আগেই বলুন আপনারন বাজেট। তাহলে সেও আপনা ভালো পছন্দসই শাড়িবেছেনিতেসাহায্যকরবে।

চোখের সাজ


 

চোখের সাজ
চোখের সাজের সময় ফ্যাশনের পাশাপাশি গুরুত্ব দিতে হবে চোখের আকৃতি ও রঙের ওপর। একেক চোখের সাজ হয় একেক রকম। ছোট চোখ যাদের, তারা মেকআপের ক্ষেত্রে হালকা রং বেছে নিন। চোখের পুরোটা এলাকায় হালকা গোলাপি রঙের শ্যাডো লাগিয়ে চোখের পাতার ওপর পর্যন্ত বাদামি রং মিশিয়ে নিন। 

এরপর চোখের পাতা ও বাইরের দিকে গাঢ় গোলাপি রং লাগিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। আপনি যদি গাঢ় রঙের আইলাইনার লাগান, সেক্ষেত্রে চোখের নিচের পাতার কোলে লাগাবেন না। 

চোখের নিচের পাতার কোলে সাদা, সোনালি, রূপালি প্রভৃতি রঙের পেনসিলের টান দিতে পারেন। এতে চোখ উজ্জ্বল, বড় ও প্রশস্ত দেখাবে। চোখে লাগাতে পারেন ঘন করে মাশকারা।
বড় চোখে আইশ্যাডো লাগানোর সসময় চোখের পাতার ওপরে হালকা রঙের শেড লাগিয়ে বাইরের কোণে গাঢ় শেড লাগাবেন। আইলাইনার দিয়ে খুব চিকন করে লাইন আঁকুন। একেবারে পাপড়ির ধার ঘেঁষে এবং চোখের নিচের অংশের কোলে কাজল পরে কিছুটা বাইরে টেনে দিন। এরপর ভ্রু ও চোখের মাঝখানে সাদা অথবা ঘিয়া কালারের শ্যাডো আলতোভাবে ছুঁয়ে দিন।

চোখের নিচের ও ওপরের পাতায় গাঢ় আইলাইনার লাগাতে পারেন। যাদের চোখ ফোলা ধরনের তারা চোখের পাতা এবং চোখের চারপাশে হলদে টোনের লুজ পাউডার আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। 

চোখের পাতায় ভাঁজের নিচ পর্যন্ত মিডিয়াম রঙে শ্যাডো লাগান। আই ভ্রু কোণে হাইলাইট করুন। এরপর বাইরের কোনা তেকে ভেতরের দিকে গাঢ় রং লাগান। 

এ ধরনের চোখে কখনোই ঘিয়া আইশ্যাডো লাগাবেন না। ওপরের পাতায় একেবারে পাপড়ির কোল ঘেঁষে বাইরে দিকের তিন ভাগে আইলাইনার লাগান। 

গোল চোখকে দীর্ঘ দেখানোর জন্য আইশ্যাডো ও লাইনারের টান বাইরের দিকে বাড়িয়ে দিন। কোনাগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে যেন কোমল ও নরম দেখায়। 


এই চোখকে সম্প্রসারিত রূপে নিতে হলে চোখের ভাঁজ পড়া অংশ পর্যন্ত মিডিয়াম শেডের আইশ্যাডো লাগান। শেডটি টেনে চোখের কোণার বাইরে নিচের চোখের নিচের পাতার বাইরের কোণা থেকে ভেতরের দিকে যেতে থাকুন। কালো আইলাইনার দিয়ে চোখের নিচের ও ওপরের পাতায় লাইন আঁকুন। চোখের ওপরের পাতায় মাশকারা লাগাবেন। বাইরের দিকের অর্ধেকটায বেশি ঘন করে লাগাবেন। 
যাদের চোখ একটু ভেতরের দিকে চাপা, তারা মেকআপের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখুন চোখকে বেশি ফুটিয়ে তোলার দিকে। 

চোখের ভাঁজ পড়া অংশে গাঢ় রঙের আইশ্যাডো লাগাতে পারেন। চোখের পাতায পেনসিল আইলাইনার ও মাশকারা লাগাবেন। আঙুল দিয়ে লাইনারগুলো ছড়িয়ে দিন। 

দুই চোখের মাঝখানে দূরত্ব বেশি থাকলে চেষ্টা করুন মেকআপের মাধ্যমে দূরত্ব কমিয়ে আনতে। চোখের ভেতরের কোণার দিকে গাঢ় রঙের শ্যাডো দিতে পারেন। 

আবার যাদের দুই চোখের মাঝখানে দূরত্ব কম, তারা মেকআপের সময় চোখের বাইরের কোনার দিকে গুরুত্ব বেশি দিন।
চোখের সাজের ক্ষেত্রে ভিন্নতা আনতে দুই রঙের আইশ্যাডো দিন। পেনসিল লাইনার চোখের ওপর-নিচ দুই পাতায় লাগানো গেলেও লিকুইড লাইনার শুধু চোখের ওপরের পাতায লাগান। আইলাইনার মোটা করে লাগাবেন না। এতে চোখকে ভারী ও কান্ত দেখায়। আপনি যদি লেন্স ব্যবহার করেন, মেকআপের শুরুর আগেই তা পরে নিন।

Saturday, August 22, 2009

সাজ


ঈদের তিন দিন তিশার খুবই আনন্দে আর অন্যরকম ভাললাগায় কাটে। কারণ এই তিন দিন সে অন্য পরিবেশে প্রবেশ করেন। ক্যামেরা লাইট রেখে এক ঈদের দিন থেকে নিজের হাতে অনেক কাজ করেন তিশা। আত্মীয়স্বজন বন্ধু-বান্ধব যারা আসেন তাদের আপ্যায়নের দায়িত্বটা থাকে তার। আর তাই তিশা’র সাজ পোশাকটায় থাকে খুব ‘ক্যাজুয়াল’ ভাব। ঈদের আগেই পার্লারে কাজ শেষ করেন তিনি। ঈদের দিন সকালের জন্যে তিশার পছন্দ লাইট কালারের পোশাক। তাই পবিত্র এ সকালে তিশা নিজেকে জড়াবেন সাদার শুভ্রতায়। সাদা সালোয়ার কামিজের সাথে পায়ে পরবেন ফ্ল্যাট স্যান্ডেল। আর সাজের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি খুব বেশি সাজতে কখনোই পছন্দ করি না। আমার প্রিয় সাজ হল চোখে কাজল আর হালকা রঙের লিপস্টিক পড়া। খুব বেশি গয়না কিংবা জমকালো সাজ আমাকে কখনোই টানে না। তবে গয়নার ক্ষেত্রে লম্বা একটা মালা পড়তে আমি ভালোবাসি।’ লম্বা চুলের সাজটা কেমন হবে জানতে চাইলে তিশা বলেন, ‘আমার চুল খোলা থাকবে। সময় আর সুযোগ মতো চুলে একটা হাত খোপাও করতে পারি। দুপুরে একই পোশাকে বাসায় থাকবো আমি। বিকেলে যদি পোশাক বদল করি তবে সেক্ষেত্রে হালকা গোলাপী রঙের পোশাক পড়বো। ঈদের তিনদিন সাধারণত আমি বাইরে বেড়াতে যাই না। তিনদিন পড়ে বেড়াতে বের হলেও আমি হালকা রঙের পোশাক ও হালকা সাজে সাজবো। আর তখনও আমার গলায় থাকবে একটা লম্বা মালা।

আটপৌরে বাসন্তী সাজ



একটু কি বদলে গেল প্রকৃতি? রাজপথের পাশে ফুটে থাকা পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়া কি জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমন? কচি সবুজ পাতা, লাল-হলুদ ফুল প্রকৃতিকে তো রাঙিয়ে দিয়েছে বসন্তের রঙে।

বেশবাসেও কি তার ছোঁয়া লাগবে না? সামনেই পয়লা ফাল্গুন। বসন্তকে বরণ করতে বেরিয়ে পড়বে সবাই। বাসন্তী রং শাড়ি পরে ললনারা ডাক দেবে মেলায় যাওয়ার। সে দিনের সাজটা কেমন হবে আপনার? বসন্তের প্রকৃতিতে রঙের ছড়াছড়ি।


পয়লা ফাল্গুনের সাজে তাই রঙের ছোঁয়া থাকবেই। নতুন ফুল, পাতার রংগুলো তুলে আনুন পোশাকে। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া যা-ই পরা হোক, তাতে তো বসন্তের উজ্জ্বল রংগুলোর ছোঁয়া থাকা চাই। আর বসন্তের ফুলগুলো তো থাকবেই চুলে, গলায় বা হাতে।

আর এভাবে ঋতুর রঙেই উজ্জ্বল হবেন আপনি। বসন্তের প্রকৃতিই রাঙিয়ে দেবে আপনাকে। বাড়তি সাজের বাহার আর প্রয়োজন আছে কি? প্রকৃতিই যখন অকৃপণ হয়ে ঢেলে দিচ্ছে রঙের বাহার, কৃত্রিম সাজের আর প্রয়োজন কি আপনার? প্রকৃতির রং আর আটপৌরে সাজ দুয়ে মিলে অনন্য আপনি।

ফাল্গুনের প্রথম দিনের সাজ নিয়ে প্রভার মত হলো, ‘সাজ যেন জবরজং কিছু না হয়ে যায়। আর বাঙালিয়ানার ছাপ তো থাকতেই হবে সাজে। টিপ বা কাচের চুড়িতে তা ফুটিয়ে তোলা যেতে পারে। এখন যে ছেলেমেয়েরা আবির পরে ঘুরে বেড়ায়, সেটা দেখতেও আমার দারুণ লাগে।’

প্রথম দিনে শাড়িটাই বোধহয় সবচেয়ে প্রিয় পোশাক। সুতি, অ্যান্ডি, তাঁত বা জামদানি যাই পরা হোক, রঙের বেলায়ও সহমত অধিকাংশ তরুণীর।


বাসন্তী, কমলা, লাল, সবুজ, রানিং রং এগুলোই তো থাকবে পোশাকে। শাড়িতে থাকতে পারে ব্লক ও জরির কাজ। ব্লাউজের কাটে ভিন্নতা আনতে পারেন ম্যাগি বা ঘটি হাতা দিয়ে।

একপেঁচে শাড়ি পরা হলে এ রকম ব্লাউজ ভালো দেখাবে। হাতের বর্ডারে বসাতে পারেন চুমকি বা জরির লেস। তবে সেটা যেন চিকন হয়।

বসন্তের সাজে যেকোনো রঙের শাড়ির সঙ্গেই গাড় লাল রঙের ব্লাউজ ভালো দেখায়। শাড়ি পরাটা যদি খুব ঝামেলার মনে হয় তাতে কোথাও কমতি হবে না বসন্তের সাজে।

বাসন্তীরঙা একটা ফতুয়া পরেই বেরিয়ে পড়ুন। গলায় পেঁচিয়ে নিন লাল স্কার্ফ বা ওড়না। বসন্তের সাজের সঙ্গে কপালে টিপ থাকবে না, তা কি হয়।

অন্য সময যেমনই পছন্দ করুন। এ দিন কিন্তু গোল টিপ ছাড়া আর কিছুই মানাবে না, হতে পারে সেটা লাল বা অন্য যেকোনো রঙের।

কুমকুম দিয়েও আঁকতে পারেন টিপ। মন্দ লাগবে না। শাড়ির সঙ্গে কাচের চুড়ি তো পরা হবেই। আর সেটাও দুই হাত ভরেই। লাল, সবুজ, হলুদ রংগুলো মিলিয়ে পরুন।


ফতুয়া বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে কাচের চুড়ি পরতে না চাইলে লেস বা সুতার চুড়ি বেছে নিন। এক হাতে নানা রঙের সুতার চুড়ি ফতুয়ার সঙ্গে দারুণ দেখাবে।

ফুল ছাড়া তো ফাল্গুনের সাজ পূর্ণই হবে না। তবে চুলে গাদার মালা বা গাজরা না পেঁচিয়ে কানের পাশে গুঁজে দিন একটা বা দুটো জারবারা।

হাতে থাকতে পারে সুতায় গাঁথা গাঁদা, জারবারা। গোলাপ, রজনীগন্ধার চেয়ে জারবারা, অর্কিড বেশিক্ষণ তাজা দেখায়।

গলায় কোনো ফুল না পরে ব্যবহার করতে পারেন পুঁতির লম্বা মালা। চুলে ফুল থাকলে কানের দুলটা হওয়া চাই ছোট। সকালে চুল ব্লো-ড্রাই করে খোলা রাখতে পারেন। তবে সারা দিন সেটা বোধহয় সম্ভব হবে না।


আলতোভাবে হাতখোঁপা করে রাখা যেতে পারে। বেণিতে খুব ছোট কোনো ফুল ব্যবহার করতে পারেন।
হিল স্যান্ডেল এ দিন এড়িয়ে চলাই ভালো।

পাতলা চটিই সারা দিনের ঘোরাঘুরিতে আরাম দেবে। পায়ে জড়াতে পারেন চিকন নূপুর। আলতাও পরতে পারেন। আলতা পরলে নখে সাদা বা স্বচ্ছ রঙের নেইলপলিশ লাগতে পারেন। ফ্রেঞ্চ পলিশও ভালো লাগবে। ত্বক যদি সতেজ না দেখায়, তাহলে এত সাজগোজ পুরোটাই যেন মাটি।

ভ্রু-প্লাক, ফেসিয়াল এগুলো তাই সেরে ফেলুন এখনই। মেকাপে ত্বকের খুঁত ঢাকা নয়; বরঙ ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন। ভারী, জমকালো মেকাপ অন্য কোনো উপলরে জন্য বরং থাক। বসন্তের সাজটা হোক ছিমছাম, স্নিগ্ধ।

বেশি কিছু নয়, হালকা আইশ্যাডো, কাজল আর লিপগ্লসটাই এ দিনের সাজে পূর্ণতা আনবে। বসন্তের প্রথম দিনটার স্বাভাবিক যে বর্ণচ্ছটা, তাকে আর কৃত্রিম রঙে রাঙানোর প্রয়োজন নেই। পোশাকের রঙে ঔজ্জ্বল্য তো থাকছেই, সাজটা না হয় সেদিন সাদাসিধেই থাকল।